best free website templates
Article Directory
Golden Ball

প্রবন্ধবলী → খেলা → ক্রিকেট 

Mobirise
অমরত্ব ডাকছে হাতছানি দিয়ে:
সাকিব কি ডাকে সারা দেবে?
সাকিবের সাথে সর্বকালের সেরা অল-রাউন্ডারদের তুলনামূলক বিশেষ বিশ্লেষণ 
Share on Facebook
আদলুল কামাল 
Published on November 30, 2019
পূর্ববর্তীতে আলোচনা করা হয়েছিল যে সাকিব আল হাসান তার ১৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অসংখ্য অর্জনের পরেও বিশ্ব ক্রিকেট মহলে অনেকাংশেই অসীকৃত এবং অবহেলিত। পরিসংখ্যান ঘেটে দেখা গেছে যে সমসাময়িক অন্য যেসব অলরাউন্ডার আছেন, যেমন বেন স্টোকস, রবিচন্দ্র অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, জেইসন হোল্ডার, এদের সকলের থেকে রেকর্ডের দিক থেকে সাকিব অনেকাংশেই এগিয়ে এবং সাকিবের সামনে ভালো সুযোগ আছে এদের সকল কে ছাড়িয়ে নিজেকে এই যুগের শ্রেষ্ট অলরাউন্ডার হিসাবে প্রতিষ্টিত করার। কিন্তু সাকিব কি পড়াবে যুগের পরিসীমা ছাড়িয়া নিজেকে সর্বকালের সেরাদের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যেখানে সাকিবের নাম উচ্চরিত হবে ইমরান, বোথাম, কপিল, হ্যাডলি, পলক বা ক্যালিসদের মতো সর্বকালের সেরাদের তালিকায়? জানতে হলে পড়ুন এই বিশেষ প্রতিবেদন যেখানে সাকিবের পরিসংখ্যানের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে সর্বলাকের শ্রেষ্ট অলরাউন্ডারদের।
ক্রিকেটের মৃত্যুঞ্জয়ী যত অল-রাউন্ডার
দুই একটা নাম এদিক ওদিক হতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন বিশেষেশজ্ঞদের তৈরী সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডারদের একাধিক তালিকাগুলি পড়লে দেখবেন কয়েকটা নামই বার বার ঘুরে ফিরে আসছে - ইমরান খান, ইয়ান বোথাম, রিচার্ড হ্যাডলি, কপিল দেব, গ্যারি সৌবার্স, শন পলক, ওয়াসিম আকরাম, জ্যাক ক্যালিস, এবং ড্যানিয়েল ভিট্টোরি। কেউ কেউ হয়তো সম্মান জানিয়ে অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ, টোনি গ্রেইগ বা কিথ মিলারের নাম উল্লেখ করবেন। অসংখ্য রেকর্ডের হিসাব বাদ দিয়েও এসব কিংবদন্তিদের বিশেষ কিছু গুন্ ছিল যা দিয়ে তাদেরকে খুব সহজেই অন্যসব অলরাউন্ডারদের মাঝ থেকে চিহ্নিত করে ফেলা যায়। প্রথমত তারা প্রত্যেকেই ছিলেন ব্যাট ও বলের ব্যাবহারে সমান পারদর্শী - ব্যাট হাতে যেমন নির্ভরতার প্রতীক, বল হাতেও তেমন বিধ্বংসী। যে কারণে তাদের ক্রিকেট মহলে তাদের বলা হয়ে থাকে পরিপূর্ণ বা খাঁটি অলরাউন্ডার বা ইংরেজিতে জেনুইন (genuine) অলরাউন্ডার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ যাবৎ বহুসংখ্যক অলরাউন্ডারের অবিরাবির্ভাব হয়েছে যাদের অনেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন, কিন্তু ইমরান-বোথামদের উচ্চতায় কেউই নিজেদের নিয়ে যেতে পারেননি। শুধু যদি একদিনের ম্যাচের কথা ধরেন, তাহলে উপরের কিংবদন্তিদের বাইরেও আরো কিছু নাম আপনাকে মনে করতে হবে - সনাথ জয়সুরিয়া, যুবরাজ সিং, শচীন টেন্ডুলকার, শহীদ আফ্রিদি, আব্দুল রাজ্জাক কিংবা শোয়েব মালিক। এদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ সময়ে একদিনের ম্যাচে দাপটের সাথে শাসন করেছেন। কিন্দু এদের কেউই টেস্ট অঙ্গনে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে ঠিকমতো মেলে ধরতে পারেননি। ইমরান -বোথাম-ক্যালিসদের সাথে এই যুগের অলরাউন্ডারদের এখানেই আরেকটা মৌলিক পার্থক্য কারণ ইমরান, বোথাম, হ্যাডলিপ্রমুখরা একই সাথে টেস্ট এবং একদিনের খেলাতে সমানভাবে আধিপত্য বিস্তার করে গেছেন। সাকিব আল হাসানও ঠিক এমনি এক বিরল প্রজাতির অলরাউন্ডার যিনি একইসাথে ক্রিকেটের বিভিন্ন সংসক্ষরণে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করার সামর্থ্য রাখেন।
অলরাউন্ডারদের অভিজাত ক্লাব
অতীতের পরিসংখ্যান ঘাটলে খুব স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে ক্রিকেটবিশ্বে নিখাঁদ অলরাউন্ডাররা আসলেই কতটা বিরল। ১৮৭৭ সালের সেই প্রথম টেস্ট ম্যাচের পর থেকে এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে মোট ৩,০০০ এর কিছু বেশি ক্রিকেটারের, আর একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হয়েছে প্রায় ২,৫০০ জন ক্রিকেটারের। কিন্তু এদের মধ্যে মাত্র ৬৪ জন খেলোয়াড় একদিনের খেলায় ছুতে পেরেছেন ১০০ উইকেট আর ১০০০ রানের অর্জন, আর মাত্র ৪ জন খেলোয়াড় পেরেছেন ৩,০০০ রান আর ৩০০ উইকেটের মাইলফলক, আর মাত্র একজন খেলোয়াড়ই গড়েছেন একই সাথে ৫,০০০ রান এবং ৩০০ উইকেট সংগ্রহের বিরল কীর্তি। তিনি হলেন শ্রীলংকার সনাথ জয়সুরিয়া। অন্যদিকে টেস্ট অঙ্গনে আছেন মোট ৭০ জন অলরাউন্ডার যারা ক্যারিয়ার জুড়ে একই সাথে ১,০০০ রান আর ১০০ উইকেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন, এবং তাদের মধ্যে মাত্র ২০ জন ছুতে পেরেছেন ২,০০০ রান আর ২০০ উইকেটের মাইলফলক, আর ৯ জন পেরেছেন ৩,০০০ রানের সাথে ৩০০ উইকেট সংরক্ষণ করতে। আর এদের সবার মধ্যে একমাত্র ভারতের কপিল দেবেরই আছে একই সাথে ৪,০০০ রান আর ৪০০ উইকেটের বিরল অর্জন যা আর কারো নেই। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক টি-২০ খেলা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭ জন খেলোয়াড় আছেন যারা ক্যারিয়ারে ১,০০০ রানের পাশাপাশি সংগ্রহ করেছেন ৫০ উইকেট, এবং তাদের মধ্যে মাত্র ২ জন ছুতে পেরেছেন একই সাথে ১০০০ রান আর ৭৫ উইকেটের মাইলফলোক। এদের একজন আফ্রিদি আর অন্য জন সাকিব আল হাসান।
আর আপনি যদি টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচের সম্মিলিত রেকর্ডের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন অলরাউন্ডারদের এসব অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ আরো বেশি সংরক্ষিত। ক্রিকেটের শুরু থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাত্র ২৩ জন ক্রিকেটারকে আমরা পেয়েছি যারা কিনা একই সাথে টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচে ১,০০০ রানের পাশাপাশি ১০০ উইকেট নিয়েছেন, এর মধ্যে মাত্র ৮ জন ছুতে পেরেছেন ২,০০০ রান আর ২০০ উইকেটের মাইলফলক যে তালিকায় সাকিব আছেন। আর আন্তর্জতিক ক্রিকেটের ১৪২ বছরের ইতিহাসে মাত্র একজন খেলোয়াড়ই আছেন যিনি কিনা টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচ দুটো সংস্করণেই ৩,০০০ রানের পাশাপাশি ৩০০ উইকেট নিয়েছেন। তিনি হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার শন পলক।
নিচের টেবিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কালজয়ী সব অলরাউন্ডারদের বিভিন্ন রেকর্ড তুলে ধরা হলো।
একদিনের ম্যাচের অলরাউন্ডারদের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাব:
সদস্যরান/উইকেট মোট খেলোয়াড়
ব্রোঞ্জ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট ৬৪
ব্রোঞ্জ+১০০০ রান ও ২০০ উইকেট১৯
রৌপ্য২০০০ রান ও ২০০ উইকেট১৪
রৌপ্য+৩০০০ রান ও ২০০ উইকেট১১ সাকিব এবং আরো ১০ জন 
রৌপ্য+২০০০ রান ও ৩০০ উইকেট ওয়াসিম, আফ্রিদি, পলক, জয়সুরিয়া, ভেট্টোরি, ভাস
স্বর্ণ৩০০০ রান ও ৩০০ উইকেটওয়াসিম, আফ্রিদি, পলক , জয়সুরিয়া
স্বর্ণ+৪০০০ রান ও ৩০০ উইকেটআফ্রিদি এবং জয়সুরিয়া
প্ল্যাটি৫০০০ রান ও ৩০০ উইকেট
জয়সুরিয়া
টেস্ট ক্রিকেটের অলরাউন্ডারদের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাব:
সদস্যরান/উইকেট মোট খেলোয়াড়
ব্রোঞ্জ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট ৭০
ব্রোঞ্জ+১০০০ রান ও ২০০ উইকেট৪২
রৌপ্য২০০০ রান ও ২০০ উইকেট২০
রৌপ্য+৩০০০ রান ও ২০০ উইকেট১৪ক্যালিস, সোবার্স, কপিল, বোথাম, ভোট্টোরি, সাকিব, ফ্লিন্টফ, ইমরান, পলক, ক্রিস কেইরনস, স্টুয়ার্ট ব্রড, শেইন ওয়ার্ন, হ্যাডলি , ভাস
রৌপ্য+২০০০ রান ও ৩০০ উইকেট১৪
কপিল, বোথাম, ইমরান, ভোট্টোরি, পলক, ওয়ার্ন, ব্রড, হ্যাডলি , ভাস, ওয়াসিম, কুম্বলে, অশ্বিন, হরভাজান, মি. জনসন 
স্বর্ণ৩০০০ রান ও ৩০০ উইকেটকপিল, বোথাম, ইমরান, ভোট্টোরি, পলক, ওয়ার্ন, ব্রড, হ্যাডলি , ভাস
স্বর্ণ+৪০০০ রান ও ৩০০ উইকেটকপিল, বোথাম, ভোট্টোরি
প্ল্যাটি৫০০০ রান ও ৩০০ উইকেট
কপিল, এবং বোথাম
হীরক৪০০০ রান ও ৪০০ উইকেট
কপিল 
আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটের অলরাউন্ডারদের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবসমূহ:
সদস্যরান/উইকেট মোট খেলোয়াড়
৫০০ রান ও ২৫ উইকেট২০
ব্রোঞ্জ+১০০ রান ও ৫০ উইকেট হাফিজ, সাকিব, ও'ব্রাইয়ান, আফ্রিদি, নবি, পেরেরা, ব্রাভো 
রৌপ্য১০০০ রান ও ৭৫ উইকেট আফ্রিদি ও সাকিব
রৌপ্য+১৫০০ রান ও ৭৫ উইকেট আফ্রিদি ও সাকিব
অলরাউন্ডারদের একদিনের ম্যাচ ও টেস্ট ক্রিকেটের সম্মিলিত রেকর্ডের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবসমূহ:
সদস্যরান/উইকেট মোট খেলোয়াড়
ব্রোঞ্জ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট ২৩
ব্রোঞ্জ+১০০০ রান ও ২০০ উইকেট১৩

রৌপ্য২০০০ রান ও ২০০ উইকেট ওয়াসিম, ভাস, পলক, ভেট্টোরি, ক্যালিস, সাকিব, কপিল, কেইরনস
রৌপ্য+৩০০০ রান ও ২০০ উইকেট পলক, ভেট্টোরি, ক্যালিস, সাকিব, কপিল, কেইরনস
রৌপ্য+২০০০ রান ও ৩০০ উইকেট
ওয়াসিম, ভাস, পলক, ভেট্টোরি 
স্বর্ণ৩০০০ রান ও ৩০০ উইকেটপলক
সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ক্রিকেটে যারা একই সময়ে খেলেননি সেসব খেলোয়াড়দের সরাসরি তুলনা করা বেশ কঠিন। কারণ বিভিন্ন সময়ের ক্রিকেটাররা খেলাটি খেলেছেন ভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে। খেলা হিসাবে ক্রিকেট কতটা প্রগতিশীল তার প্রমান আমরা গত কয়েক দশক ধরে অনেকবার পেয়েছি। খেলার আইন, কৌশলগত দিক, বাণিজ্যিকরণ এসব বিষয়গুলোতে প্রায় প্রতি দশকেই এসেছে মৌলিক কিছু পরিবর্তন। যেমন আগেকার দিনের তুলনায় এখনকার ক্রিকেটাররা টেস্ট ম্যাচের চেয়ে বেশি খেলেন সীমিত ওভারের ম্যাচ। আগের দিনে যেখানে বেশি বেশি উইকেট সংগ্রহ কিংবা দীর্ঘ ইনিংস গড়ার দিকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হতো এখন তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ব্যাটসম্যানদের রান তোলার গতি কিংবা বোলারদের রান আটকানোর দক্ষতাকে। ইমরান বোথামদের সময়ে দেখা যেত দ্রুতগতির বোলাররা অনেক সুবিধা পেতো কারণ আগেকার দিনের উইকেট বা পিচ হতো দ্রুতগতির এবং বাউন্সি যেখানে আজকালকার বেশিভাগ উইকেটই তৈরী হয় ব্যাটসম্যানদের জন্য যেখানে দ্রুতগতির বোলাররা খুব অল্পই সুবিধা নিতে পারেন। 
এসব পরিস্থিতিগত বিষয়গুলো পরিসংখ্যানে ফুঠে ওঠে না। তাই শুধু পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে খেলোয়াড়দের মান বিচার করা হলে সেই পদ্ধতিতে থেকে যায় অনেক ফাঁকফোকর। আর এই বৈসাদৃশ্য কমানোর জন্য আমরা একটা বিশেষ বিশ্লেষণ করেছি যেখানে সকল অলরাউন্ডারদের ক্যারিয়ারজুড়ে সংগ্রহীত রান বা উইকেট বাদেও আরো অন্যান্য রেকর্ড গণনায় আনা হয়েছে। পয়েন্ট-ভিত্তিক এই পদ্ধতিতে প্রতিটি খেলোয়াড়ের মানদণ্ড যাচাইয়ের জন্য খেলার বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা হয়েছে । এই বিশ্লেষণে খেলার যেসব বিষয় বিবেচনায় আনা হয়েছে তা হলো – ক্যারিয়ারের মোট রান ও উইকেট, ব্যাটিং গড়, বোলিং গড়, ব্যাটিং ও বোলিং গড়ের পার্থক্য, একদিনের ম্যাচ ও টেস্টে মোট শতাধিক রানের ইননিংশ, টি-২০তে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস, টি-২০তে মোট এক ইনিংসে ৪+ উইকেট শিকার, একদিনের ম্যাচ ও টেস্টে এক ইনিংসে ৫+ উইকেট দখল, টেস্টে এক ম্যাচে ১০+ উইকেট শিকার, টি-২০তে বোলিং এর ইকোনোমি, এবং টি-২০ তে ব্যাটিং এ রান তোলার গতি। পরিসংখান বিদ্যার ডিসক্রিট ইন্টারভ্যাল স্কেলিং সিস্টেম (discrete interval scaling system) ব্যবহার করে প্রতিটি খেলোয়াড় কে উপরে উল্লেখ্য খেলার বিভিন্ন অংশের উপর ভিত্তি করে নম্বর প্রদান করা হয়েছে এবং যা থেকে প্রত্যেকের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়। শুধুমাত্র সেসব খেলোয়াড়দেরকেই এই বিশ্লেষেণের অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচনায় আনা হয়েছে যারা টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচের ক্ষেত্রে অন্তত ১,০০০ রানের পাশাপাশি ১০০ উইকেট সংগ্রহ করেছেন এবং টি-২০ এর ক্ষেত্রে যারা ১,০০০ রানের পাশাপাশি অন্তত ৫০ উইকেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
টেস্টের সর্বকালের সেরা অল-রাউন্ডারদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
Mobirise
একদিনের ম্যাচের সর্বকালের সেরা অল-রাউন্ডারদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
Mobirise
বিশেষণের ফলাফলে বেশ কিছু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য উঠে আসে। টেস্টের ফলাফলে ইমরান, বোথাম, হ্যাডলি, কপিল, ক্যালিস, পোলক, সোবার্সের মতো কালজয়ী সব বিখ্যাত অলরাউন্ডারদেরই আধিপত্য লক্ষ করা যায় যা মোটামোটি প্রত্যাশিতই বলা চলে । এদের মধ্যে ইমরানের অবস্থান ছিল সবার ওপরে। অন্যদিকে একদিনের ম্যাচের বিশ্লেষণে সনাথ জয়সুরিয়া, সৌরভ গাঙ্গুলি, শহীদ আফ্রিদি, ক্রিস গেইল, সচিন টেন্ডুলকারদেড় মতো খেলোয়াড়দের আধিক্য লক্ষ্য করা যায় যারা কিনা গত দুই দশকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসাবে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। একদিনের তালিকার উপরের দিকে অবস্থানরত সাকিব ছাড়াও উল্লেখ্য ছিলেন ল্যান্স ক্লাসনার, ওয়াসিম আকরাম, ও আব্দুল রাজ্জাক প্রমুখ, আর সবার উপরে আছেন জ্যাক ক্যালিস। ক্যালিসই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টেস্ট এবং একদিনের খেলার দুই তালিকাতেই প্রথম পাঁচের মধ্যে অবস্থান করেন। সাকিব আর পলক একই সাথে টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচে প্রথম দশ জনের মধ্যে স্থান দখল করেন। এ ছাড়াও আরো চার জনকে পাওয়া গেছে যারা টেস্ট এবং একদিনের খেলায় প্রথম বিশ জনের মধ্যে থাকতে সক্ষম হন - ইমরান, হ্যাডলি, কপিল এবং ওয়াসিম।
যেসব খেলোয়াড় টেস্ট ও একদিনের খেলার দুটি তালিকাতেই প্রথম বিশজনের মধ্যে আছেন:
নামএকদিনের ম্যাচের অবস্থানটেস্টের অবস্থান
টপ ৫ক্যালিস 

টপ ১০পলক
টপ ১০সাকিব১০
টপ ২০ইমরান১৭
টপ ২০হ্যাডলি১৮
টপ ২০কপিল২০
টপ ২০ওয়াসিম১২১২
সাকিব ২০১৯ এ অবসর নিলে সর্বকালের সেরাদের পাশে তার অবস্থান থাকবে কোথায় ?
শুধু পরিসংখ্যানের বিচারে কোনো খেলোয়াড়ের মান বিচার করা একটা বিশাল ভুল কারণ ক্রিকেটের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় স্কোরবোর্ডে ফুঠে ওঠে না, আর তাই সর্বকালের শ্রেষ্ট অলরাউন্ডার কে আমরা হয়তো সেই বিতর্কের ইতি কখনোই পুরোপুরি  টানতে পারবো না। কিন্তু এই বিশ্লেষণে ফুটে ওঠে যে পরিসংখ্যানের বিচারে একজন অলরাউন্ডার সবার প্রায় ধরাছোয়ার বাইরে। যিনি হলেন জ্যাক ক্যালিস। আর এই পরিসংখ্যানের বিচারেই অলরাউন্ডার হিসাবে সাকিবের অবস্থান বেশ সুদৃঢ় এবং সাকিব যদি তার ক্যারিয়ারের শেষ বছরগুলো ভালোমতো পার করতে পারেন তাহলে তার সামনে বড় সুযোগ থাকবে নিজের রেকর্ড ইমরান, বোথাম, কপিল, হ্যাডলি বা পলকদেড় সমতুল্য পর্যায় নিয়ে যাওয়ার।
উপরের টেবিলগুলোতে লক্ষণীয় যে সাকিব কিন্তু ইতিমধ্যেই অলরাউন্ডারদের বেশ কিছু অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যেই সাকিব একদিনের ম্যাচ এবং টেস্টে ৩,০০০ রান আর ২০০ উইকেটের ক্লাবের সদস্য। একদিনের ম্যাচে এই ক্লাবে সাকিবের পাশে আছেন আরো দশজন, আর টেস্টে আছেন আরো ১৩ জন। টেস্ট এবং একদিনের খেলার সম্মিলিত হিসাবে সাকিবের আছে আরো অনন্য একটি রেকর্ড, সাকিব একই সাথে দুই সংস্করণেই জমিয়েছেন ২,০০০ রান এবং ২০০ উইকেট। পুরো ক্রিকেট ইতিহাসেই এই রেকর্ডটি আছে আর মাত্র সাতজনের - ওয়াসিম আকরাম, চামিন্দা ভাস, শন পলক, ড্যানিয়েল ভিট্টোরি, জ্যাক ক্যালিস, কপিল দেব, এবং ক্রিস ক্রেইন্স। আর তাই সাকিব যদি ২০১৯ এও অবসরের সিদ্ধান্ত নেন বেশ কিছু রেকর্ডের বিচারে ইতিমধ্যেই তার নাম বিভিন্ন কিংবদন্তিদের পাশে থাকবে।
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
সাকিবের ক্যারিয়ারের হারিয়ে যাওয়া সব সুযোগগুলি 
অঢেল রেকর্ড আর অর্জনের মাঝেও সাকিবের পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই ছিল অনেক রকম বিড়ম্বনা। ১৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাকিব এইপর্যন্ত ইনজুরি, শৃংখলাজনিত বরখাস্তি, আর স্বেচ্ছা নির্বাসনের কারণে মিস করেছেন সর্বমোট ১৩টি টেস্ট, ৩৮টি একদিনের ম্যাচ, আর ১৩টি টি-২০। সাকিবের ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বলা যায় যে এই খেলাগুলো যদি সাকিব মিস না করতেন তাহলে টেস্টে সাকিবের থাকতো ৯০০ রানের পাশাপাশি আরো ৪৮টি উইকেট, একদিনের ম্যাচে থাকতো আরো ১১৫০ রান এবং ৪৮টি উইকেট, আর টি-২০তে থাকতো আরো ১৫টি উইকেটের সাথে ২৬৫ রান। 
সাকিব ক্যারিয়ারের ওই খেলাগুলো মিস না করলে তার রেকর্ড কোথায় থাকতো ?
উপরের এই প্রাক্কলনে দেখা যায় যে সাকিব যদি ক্যারিয়ারে ওই খেলাগুলো থেকে বঞ্চিত না হতেন তাহলে আজ একদিনের ম্যাচে তার রান থাকতো ৫,০০০ এর উপরে আর উইকেট থাকতো ৩০০এর বেশি, আর এই অর্জনটি ইতিমধ্যেই তাকে দাঁড় করিয়ে দিতো সনাথ জয়সুরিয়ার পশে যিনি হলেন বর্তমানে এই অনন্য রেকর্ডটির একমাত্র মালিক। টেস্ট ক্রিকেটে ওই ১৩টি  ম্যাচ মিস না করলে সাকিব আজ থাকতো ৫,০০০ রানের দাঁড় প্রান্তে আর গড়ানুপাতে তার উইকেট থাকতো ২৫০ এর বেশি। পাশাপাশি সাকিবের সামনে ভালো সুযোগ থাকতো ৫,০০০ রানের সাথে ৩০০ উইকেট সংগ্রহের রেকর্ড গড়ার যা কিনা আছে আর মাত্র ৩ জন অলরাউন্ডারদের - কপিল দেব, ইয়ান বোথাম, আর ড্যানিয়েল ভিটোরি। কিন্তু ১৩ টি টেস্ট মিস করে এই রেকর্ডটি আজ পুরোপুরি অসাধ্য না হলেও অনেকটাই যেন নাগালের বাইরে। আর টি-২০তে ওই ১৩ টি খেলা মিস না করলে সাকিব আজ হতেন টি-২০ ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার যার সংগ্রহ ১,০০০ রান আর ১০০ উইকেট।
ইনজুরি, বরখাস্ত, আর ছুটির কারণে ওসব খেলাগুলো মিস না করলে সাকিব আজ কি থাকতো:
ম্যাচ (মিস)রানউইকেট 
টেস্ট 
৬৮ (১৩)
৪৭০৬
২৫৩
একদিনের ম্যাচ
২৪৪ (৩৮)
৪৭৯০
৩০৮
টি-২০৮৫ (১৩)১৭৩৬১০৩
সাকিবের আগে ব্যার্থ হয়েছেন যেসব অলরাউন্ডাররা 
ক্রিকেট ইতিহাসে প্রায় প্রতি প্রজন্মেই এসেছেন অনেক প্রতিভাবান অলরাউন্ডার যাদের অনেকেই ক্যারিয়ারের শুরুতেই নজর কেড়েছেন এবং যাদের অনেকের মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা ইমরান, বোথাম, হ্যাডলিদের ছায়া দেখেছেন। কিন্তু দেখা গেছে এদের বেশিভাগই প্রত্যাশাপূরণে ব্যার্থ হয়েছেন আর ক্যারিয়ার শেষে দেখা গেছে এদের কারো রেকর্ডই উপরোক্ত কিংবদন্তিদের সমতুল্য নয়। যেমন ধরুন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের কথা যাকে অনেকেই ভাবতেন ইমরান-বোথামদের যোগ্য উত্তরসূরি।. কিন্তু ফ্লিনটফের ক্যারিয়ার শেষে দেখা যায় যে রান এবং উইকেট দুই বিভ্যাগেই তিনি ইমরান, বোথাম , কপিলদের থেকে যোজন যোজন পেছনে। একদিনের খেলায় গত ২ দশকে আবির্ভাব হয় আফ্রিদি, রাজ্জাক, শোয়েব মালিক, যুবরাজ সিংদের মতো অনেক লাড়কু ক্রিকেটারদের যারা অল-রাউন্ডার হিসাবে একদিনের খেলায় দাপটের সাথে শাসন করে গেছেন। কিন্তু এদের কেউই টেস্ট অঙ্গনে অল-রাউন্ডার হিসাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন নি। সাকিবের সামনে আছে একই সাথে টেস্ট ও একদিনের খেলায় নিজেকে পরিপূর্ণ অল-রাউন্ডার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার বিরল সেই সুযোগ যা অর্জনে অনেক পূর্বসূরিরাই হয়েছেন ব্যার্থ ।
বাস্তবে সর্বকালের সেরাদের পাশে সাকিবের সম্ভাবনা কতখানি?
২০২০ সালের শেষের দিকে সাকিব যখন বহিষ্কারাদেশ কাটিয়ে খেলায় প্রত্যাবর্তন করবেন তখন তার বয়স হবে সাড়ে ৩৩ বছর। এখন পর্যন্ত সাকিব অবসর নিয়ে কিছু বলেন নি। বাস্তবগতঃভাবে সাকিব চাইলে আরো ৩ থেকে ৫ বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারেন যদি না তিনি তার ফিটনেস (fitness), স্বাস্থ্য কিংবা খেলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। 
একদিনের ম্যাচে ক্যারিয়ার শেষে সাকিবের রেকর্ড কোথায় থাকতে পারে: 
ম্যাচ রান  উইকেট
(বর্তমান রেকর্ড)
(২০৬)(৬৩২৩)(২৬০)
যদি আরো ৩ বছর খেলেন২৫৩৭৭৮২ ৩২০
যদি আরো ৪ বছর খেলেন
২৬৯ ৮২৬৮ ৩৪০
যদি আরো ৫ বছর খেলেন২৮৫৮৭৫৫৩৬০
অনুমান করা হয়েছে যে সাকিব তার ক্যারিয়ার গড় অনুযায়ী বছরে ১৬ টি একদিনের ম্যাচ খেলে প্রতি ম্যাচে ৩০.৭ গড়ে রান করবেন আর প্রতি ম্যাচে ১.২ টি করে উইকেট নেবেন 
টেস্ট ক্যারিয়ার শেষে সাকিবের রেকর্ড কোথায় থাকতে পারে: 
ম্যাচরান  উইকেট
(বর্তমান রেকর্ড)(৫৬)(৩৮৬২)(২১০ )
যদি আরো ৩ বছর খেলেন৬৯৪৭৫৩
২৫৮
যদি আরো ৪ বছর খেলেন৭৩৫০৫০
২৭৪
যদি আরো ৫ বছর খেলেন৭৮৫৩৪৭ ২৯০
অনুমান করা হয়েছে যে সাকিব তার ক্যারিয়ার গড় অনুযায়ী বছরে ৪.২ টি টেস্ট খেলে প্রতি ম্যাচে (২ ইনিংস মিলিয়ে) 69.2 গড়ে রান করবেন আর ৩.৭ টি করে উইকেট নেবেন 
আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্যারিয়ার শেষে সাকিবের রেকর্ড কোথায় থাকতে পারে: 
NAMEম্যাচরান  উইকেট
(বর্তমান রেকর্ড)(৭২)(১৪৭১)(৮৮)
যদি আরো ৩ বছর খেলেন৮৯১৮১০১০৮
যদি আরো ৪ বছর খেলেন৯৪১৯২৪ ১১৫
যদি আরো ৫ বছর খেলেন১০০ ২০৩৭১২২
অনুমান করা হয়েছে যে সাকিব তার ক্যারিয়ার গড় অনুযায়ী প্রতিবছর ৫.৫ টি টি-২০ খেলে প্রতি ম্যাচে ২০.৪৩ গড়ে রান করবেন আর ১.২ টি করে উইকেট নেবেন 
একদিনের খেলায় সাকিব ইতিমধ্যেই আছেন বেশ শক্ত অবস্থানে, আর তাই সাকিব যদি আরো ৩ বছর খেলা চালিয়ে যায় তাহলে খুব অনায়েসেই ধরে ফেলবেন জয়সুরিয়ার ৫,০০০ রান আর ৩০০ উইকেটের রেকর্ড আর টপকে যাবেন ওয়াসিম, পলক এবং আফ্রিদির ৩,০০০ রান আর ৩০০ উইকেটের মাইলফলক। আর সাকিব যদি আরো ৫ বছর একদিনের খেলা চালিয়ে যান তবে পৌঁছে যাবেন ৪,০০০ রান আর ৪০০ উইকেটের বিরল এক রেকর্ডের খুব কাছাকাছি যা একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত কেউ অর্জন করতে পারেন নি।
এইদিক দিয়ে টেস্টে অবশ্য সাকিব অনেকটাই পিছিয়ে এবং টেস্ট ক্রিকেটের কিংবদন্তীদের পাশে নাম লেখাতে হলে সাকিবকে সামনে বেশ লম্বা এবং বন্ধুর পথ পারি দিতে হবে। ২০১৯ সালের শেষ পর্যন্ত ৫৬ টি টেস্টে সাকিবের মোট রান ৩.৮৬২ আর উইকেট মোট ২১০ টি যা ইতিমধ্যেই সাকিবকে ৩,০০০ রান আর ২০০ উইকেটের ক্লাবের আরো ১৪ জন অল-রাউন্ডারদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এই ক্লাবের অন্য ১৪ জন হলেন ক্যালিস, গ্যারি সোবার্স, কপিল দেব, বোথাম, ভেটোরি, ফ্লিন্টফ, ইমরান, পলক, ক্রিস কেইরনস, শেইন ওয়ার্ন, ষ্টুয়ার্ড ব্রড, হ্যাডলি এবং চামিন্দা ভাস। এই অবস্থান থেকে সাকিবের পরবর্তী ধাপ হবে ৩,০০০ রান এবং ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকে পড়া যেখানে বর্তমানে অবস্থান ৯ জন ক্রিকেটারের (কপিল, বোথাম, ভেটোরি, ইমরান, পলক, ওয়ার্ন, ব্রড, হ্যাডলি এবং ভাস)। কিংবা ৩০০ উইকেটের সাথে ৫,০০০ রানের ক্লাব যেখানে আছেন শুধুমাত্র কপিল দেব এবং ইয়ান বোথাম।
টেস্টে সাকিবের মোট রান ইতিমধ্যেই ৪,০০০ এর কাছাকাছি, তাই স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে গেলেই ৩-৪ বছরের মধ্যেই সাকিবের ৫,০০০ টেস্ট রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলা উচিত। কিন্তু পরবর্তী ধাপে পৌঁছানোর জন্য সাকিবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ৩০০ উইকেট ছোয়া। বর্তমানে সাকিবের টেস্ট উইকেট সংখ্যা হলো ৫৬ টেস্টে ২১০। গড়ে তিনি বছরপ্রতি নিয়েছেন ১৬.১৫ উইকেট। ২০০৮ সালে তিনি ৮ টেস্ট খেলে নিয়েছিলেন ৩০ টি উইকেট এবং ২০১৭ সালে নিয়েছিলেন ৭ টেস্টে ২৯ টি উইকেট - এ দুটি বছরই বোলিংয়ের বিচারে সাকিবের সেরা দুই পঞ্জীকাবর্ষ। সাকিব যদি ফেরার ৩ বছরের মধ্যে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুতে চান তবে তাকে ২০০৮ আর ২০১৭ সালের সেই সেরা পারফরম্যান্সের পুনরাবৃদ্ধি করতে হবে। আর তিনি যদি ৫ বছরের লক্ষ্যও ঠিক করেন তাহলেও ৩০০ উইকেট ছুতে সাকিবকে বছরে অন্তত ১৮ টি করে উইকেট তুলে নিতে হবে যা কিনা তার ক্যারিয়ারের বাৎসরিক গড় উইকেট সংগ্রহের (১৬.১৫) চেয়ে বেশি। টেস্টের অল-রাউন্ড অর্জনে সাকিবের সর্বশেষ ধাপ হতে পারতো কপিল দেবের ৪,০০০ রান ও ৪০০ উইকেটের রেকর্ড, কিন্তু যেকোনো বিচারেই টেস্টে ৪০০ উইকেট এখন সাকিবের পুরোপুরি নাগালের বাইরে।
অন্যদিকে টি-২০তেও  সাকিবের অবস্থান বেশ ভালো, আর এই সংস্করণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাকিব পারেন ইতিহাসে নিজের নাম আলাদাভাবে লেখার। বোথাম, হ্যাডলিরা টি-২০ তে নিজেদের প্রমানের সুযোগ পান নি, এমনকি ক্যালিসেরও টি-২০এর রেকর্ড যথেষ্ট বিবর্ণ । তাই সাকিব হতে পারেন ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি তিন সংক্ষকরণেই নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। সাকিব যদি আরো ৫ বছর টি-২০ খেলে যান তবে খুব সাদামাটা পারফরমেন্স দিয়েই একদিনের ম্যাচ, টি-২০, এবং টেস্ট - তিন সংস্করণেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ১০০ উইকেট আর ২,০০০ রানের মাইলফলক। এটি হবে পুরো ক্রিকেট ইতিহাসেরই অভূতপূর্ব এক ঘটনা এবং এই রেকর্ড ভবিষ্যতেও ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকবে খুব কম।
অমরত্বের হাতছানির ডাকে সাকিব কি সাড়া দেবে? 
যদিও সাকিব হালের অনেক অল-রাউন্ডারদের তুলনায় বেশ ভালো অবথানেই আছেন এবং তার সমসাময়িক অনেক খেলোয়াড়দের থেকে উপরে থেকেই তার ক্যারিয়ার শেষ করা উচিত। কিন্তু অন্যদের থেকে এগিয়ে থেকেও সাকিবের ক্যারিয়ারের শেষ বছরগুলোতে আরাম করে কাটানোর সুযোগ নেই। সাকিবের থেকে পরিসংখ্যানে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ২০১৯ অব্দি বেন স্টোকস, জেইসন হোউল্ডার, রবিচন্দ্র অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজারা প্রত্যেকেই সাকিবের যোগ্য চ্যালেঞ্জার হিসাবে নিজেদের প্রমান করেছেন। এদের যে কেউই যেকোনো সময় সাকিব কে ছাড়িয়ে বিশ্বসেরা হওয়ার ক্ষমতা রাখেন আর সাকিব যদি যুগের এই লাড়কু যোদ্ধাদের চ্যালেঞ্জেগুলো গুরুত্বের সাথে না নেয় তাহলে সাকিবের আগেই এদের যেকারো কারো নামও বসতে পারেন ইমরান-বোথামদের পাশে।
ক্রিকেট মহলে সাকিবকে নিয়ে অনেক ধরণের কথার প্রচলোন আছে। ১৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আছে উত্থান পতন আর ভাঙা গোড়ার অনেক গল্প। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে একটা ব্যাপারই বারবার সত্য প্রমাণিত হয়েছে - সাকিবের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষটি বাস করে যেন ঠিক সাকিবেরই ভেতর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে তাকালেই স্পষ্ট চোখে পরে একাধিক ইনজুরির আঘাত কিংবা শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কলঙ্ক। তার সাথে যুক্ত করুন সাকিবের একাধিক স্বেচ্ছা নির্বাসন। এসব কিছু মিলিয়েই দেখা গেছে সাকিব ক্যারিয়ার জুড়ে ফর্মে থাকা অবস্থাতেই বারবার খেলার বাইরে চলে যাচ্ছেন, কিংবা হঠাৎ হঠাৎ স্বভাববিরুদ্ধ ভাবে ছন্দ হারাচ্ছেন। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে সাকিব যদি কালজয়ী কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লেখাতে চান তাহলে সবার আগে তাকে তার নিজের ভেতরকার সেই অশুভ শনির মোকাবেলা করতে হবে। সহজ কোথায়, বাকি সময়টুকুতে সাকিবকে সমস্ত একাগ্রতা ক্রিকেটের দিকে দিতে হবে, সাস্থ্য এবং ফিটনেসের দিকে পরিপূর্ণ মনোযোগ আনতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, এবং সর্বোপরি নিশ্চিত করতে হবে যে সে যেন আর কোনো খেলা মিস না করে।
সাকিবের মতো খেলোয়াড়েরা প্রতি প্রজন্মে একবারই আসে। কিন্তু তার নিজের একাধিক কৃতকর্ম আর ছন্দপতনের কারণেই ক্রিকেটের প্রতি সাকিবের নিবেদন বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সাকিবের প্রতিভা নিয়ে কখনোই কাউকে সন্দেহ প্রকাশ করতে দেখা যায় নি। কিন্তু তার আচার ও আচরণ দেখে অনেক সময়ই যেন মনে হয় সাকিব হয়তো তার নিজের মহত্ব সম্পর্কে নিজেই পুরোপুরি অবগত নন। বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে যাদের জন্ম হয় তাদের কাঁধে দায়িত্যও থাকে অনেক। কিন্তু প্রকৃতিদত্ত সাকিবের এই বিশেষ ক্ষমতা সম্পর্কে সাকিব যেন অনেকটাই উদাসীন। এ কারণেই হয়তো যথেষ্ট দক্ষতা বা মেধা থাকার পরেও এই যুগের অন্য অল-রাউন্ডারদের থেকে সাকিব কখনোই নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন নি। অনেক সাফল্য সত্ত্বেও তাই আজ ১৩ বছর পরও বলার উপায় নেই যে সাকিবই এই প্রজন্মের অবিসংবাদিত সেরা অল-রাউন্ডার। কিন্তু সাকিবের ব্যাপারে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ঠিক যখনই আপনি তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করবেন ঠিক তখনি সাকিব আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবে ব্যাট আর বলের কড়া ভাষায়। যতবারই মানুষ সাকিবের নাম বাতিলের খাতায় তুলে ফেলেছে ততবারই সাকিব তাদেরকে ভুল প্রমান করেছে কোনো এক দ্বিশতক হাঁকিয়ে, কিংবা একই টেস্টে ১০০ রানের পাশাপাশি ১০ উইকেট নিয়ে।
এই পৃথিবীতে যাদের জন্ম হওয়ার সুযোগ হয় তাদের প্রত্যেককেই তাদের প্রত্যেককেই মৃত্যু নামক শেষ পরিণতিটি মেনে নিতে হয়। কিন্তু খুব নগন্য সংখ্যক মানুষের সামনেই আসে নিজের কাজের মাধ্যমে মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকার সুযোগ। অমরত্ব লাভের বিশেষ যেই সুযোগ সাকিবের সামনে আজ হাতছানি দিয়ে ডাকছে তার মহত্ব সাকিবের অনুধাবন করা উচিত। কারণ তার সামনে টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচ দুই সংস্করণেই ৩,০০০ রান আর ৩০০ উইকেটের রেকর্ডের যেই বিরল সুযোগ আছে সেটা অনেক বড় বড় ক্রিকেটারের জীবনেও আসে নি। কিন্তু অমরত্বের সেই সুযোগটাই সাকিবকে ডাকছে হাতছানি দিয়ে। সাকিব কি সেই ডাকে সারা দেবে?
লেখাটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন :
মন্তব্য 

প্রতিটি মন্তব্য পর্যবেক্ষন করা হবে, দয়া করে মন্তব্যের নিয়মাবলি অনুসরণ করুন 
সাকিবকে নিয়ে আরও পড়ুন 

উৎস
ESPNCricinfo. (2019). Cricket Records – Find ICC Cricket Stats Online | ESPNcricinfo.com. Retrieved from http://stats.espncricinfo.com/ci/engine/records/index.html

ছবি

Tite Image of Shakib Al Hasn by Hagen Hopkins/Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/shakib-al-hasan-of-bangladesh-celebrates-his-double-century-news-photo/631580910

Tite Image of Imran Khan by Patrick Eagar/Popperfoto/Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/pakistan-captain-imran-khan-after-the-3rd-test-match-news-photo/626280230

Tite Image of Richard Hadlee by Eagar/Popperfoto/Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/richard-hadlee-of-new-zealand-during-the-tour-match-between-news-photo/631831410

Tite Image of Jacques Kallis by Asif Hassan/Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/south-african-man-of-the-match-jacques-kallis-poses-with-a-news-photo/77198718

Tite Image of Kapil Dev by Chris Cole/Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/indian-cricketer-kapil-dev-ramlal-nikhanj-at-sharjah-in-the-news-photo/72346902

Tite Image of Shaun Pollock by Patrick Eagar/Popperfoto/Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/shaun-pollock-of-warwickshire-before-the-benson-and-hedges-news-photo/631984562

লেখকের বৃত্তান্ত 

Adlul Kamal 

আরো পড়ুন 

আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে যোগাযোগ করুন:

Mobirise gives you the freedom to develop as many websites as you like given the fact that it is a desktop app.

Publish your website to a local drive, FTP or host on Amazon S3, Google Cloud, Github Pages. Don't be a hostage to just one platform or service provider.

Just drop the blocks into the page, edit content inline and publish - no technical skills required.

Mobirise

“The scope of one’s personality is defined by the magnitude of that problem which is capable of driving a person out of his wits.”
― Sigmund Freud

সোশাল মিডিয়াতে অনুসরণ করুন : 

Address

1013 Florence Street, London, N52 2M7 ON Canada

Contacts

Email: adlul@mail.com
Phone: +1 204 470 3570

CSPA
Follow on Facebook
Follow on Twitter
Connect on LinkedIn
Subscribe on YouTube
Adlul Kamal, M.Sc. - Sport and Exercise Psychology