Article Directory
free site design templates

প্রবন্ধবলী → খেলা → ক্রিকেট 

Mobirise
সাকিব আল হাসানই কি এই প্রজন্মের সেরা অলরাউন্ডার ?
সাকিবের সাথে অন্য অলরাউন্ডারদের রেকর্ডের বিশেষ বিশ্লেষণ 
Share on Facebook
আদলুল কামাল 
Published on November 3, 2019
২০১৯ সালটা ছিল সাকিব আল হাসান আর তার ভক্তদের জন্য বেশ ঘটনাবহুল একটা বছর। ২০১৯ বিশ্বকাপের রেকর্ড গড়া দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর হঠাৎ করেই সাকিব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতিদমন রীতি লঙ্ঘনের কারণে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন । সাকিব হয়তো খুব শীঘ্রই নেমে যাবেন নিজের ক্যারিয়ার পূনরুদ্ধারের কাজে। এরই মাঝে চলুন দেখে নেয়া যাক সাকিবের ১৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এর কিছু গুরুত্তপূর্ণ ঘটনা বা সিদ্ধান্ত যা তার ক্যরিয়ার এর গতিনির্দেশক হিসাবে ভূমিকা রেখেছে। কয়েক খন্ডের এই লেখায় সাকিবের ক্যারিয়ার এর একাধিক ভুল এবং অর্জনসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো। এই দ্বিতীয় খন্ডে সাকিবের ক্যারিয়ার এর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসময়ের অন্য অলরাউন্ডারদের সাথে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো।
Mobirise
১৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার জুড়ে অসংখ্য রেকর্ড আর অর্জন থাকা সত্ত্বেও সাকিব আল হাসান যেন তারার আকাশে অনেকটাই ফিকে। ক্যারিয়ারের একটা লম্বা সময়জুড়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিটি ফরম্যাটের আনুষ্ঠানিক র্যাঙ্কিং এ এক নম্বর স্থানে অবস্থান করার পরেও এই প্রজন্মের সেরা অলরাউন্ডার হিসাবে সাকিব আল হাসানের নাম অবিসংবলিত নয়। সাকিবের ক্যারিয়ার নিয়ে কয়েক খন্ডের এই লেখার দ্বিতীয় খন্ডে সাকিবের ক্যারিয়েরের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ঘেটে তার সাথে হালের অন্য অলরাউন্ডারদের তুলনা করে সাকিবের আসল অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।
সাকিব এই প্রজন্মের সেরা অলরাউন্ডার কিনা সেই ব্যাপারটা যথেষ্ট বৈষয়িক, এবং তা নির্ভর করবে অনেকগুলো বিষয়ের। যেমন আপনি খেলার কোন অংশটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন – ব্যাটিং, বোলিং, বা ফিল্ডিং, কিংবা কোন সংস্করণের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে – টেস্ট, একদিনের ম্যাচ, নাকি টি-২০। একই সাথে খেলার পরিবেশ বা পরিস্থিতির ব্যাপারটাও অনেকে হিসেবে ধরবেন – খেলাটা কোন অঞ্চলে হচ্ছে, আবহাওয়া, কিংবা উইকেটের ধরণ। এসব বিষয় হিসেবের ধরলে দেখা যাবে, অনেক ক্রিকেটবোদ্ধারাই হয়তো ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতির উইকেটে বেন স্টোকেসকে সাকিবের উপরে রাখবেন, কিংবা টেস্ট ক্রিকেটে সাকিবের বদলে অশ্বিন বা জাদেজাকে দলে নিতে চাইবেন, কিংবা টি-২০ তে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে প্রাধান্য দেবেন। কিন্তু আমরা যদি পরিসংখ্যানকে প্রাথমিক মানদণ্ড হিসাবে ধরি তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডার হিসাবে সাকিবের দৃঢ় অবস্থান উপেক্ষা করা বেশ মুশকিল। কিম্বার (২০১৯) এর এক বিশ্লেষণে বেশ কিছু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য বেরিয়ে আসে। তার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাকিবের অভিষেকের (২০০৬) পর যত খেলা হয়েছে সেসব খেলার পরিসংখ্যানে রান সংগ্রহের দিক দিয়ে সাকিবের অবস্থান ১৩টম। আর যেই ১২ জন ব্যাটসম্যান সাকিবের চেয়ে বেশি রান করেছেন তাদের সকলের সম্মিলিত উইকেট সংখ্যা হচ্ছে ৯৬, যেখানে সাকিব নিয়েছেন ২৫৯ টি। সাকিবের গড়ও তিন থেকে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করা সকল ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বেশি আর বোলিং গড় এই সময়ের মধ্যে যেকোনো স্পিন বোলার এর চেয়ে কম। তাই কিম্বারের দাবি, সাকিব বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নাও হতে পারেন, কিন্তু তিনি নিশ্চিত ভাবে এই সময়ের সবচে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
Mobirise
বিশ্বকাপ ২০১৯ এ সাকিব  (ছবি : ক্লাইভ মেইসন  / গেটিইমেজেস )
বিশেষ নম্বরভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহার করে এবং খেলার বিভিন্ন অংশ হিসাবে ধরে আমরা আমাদের নিজেদের এক বিশ্লেষণ করি। এই বিশ্লেষণে খেলার যেসব বিষয় বিশ্লেষণের জন্য বিবেচনায় আনা হয়েছে তা হলো – ক্যারিয়ারের সংগ্রহীত রান, ব্যাটিং গড়, ক্যারিয়ারের সংগ্রহীত উইকেট, বোলিং গড়, ক্যারিয়ারের ব্যাটিং ও বোলিং গড়ের পার্থক্য, ব্যাটিং স্ট্রাইক রেইট, বোলিং স্ট্রাইক রেইট, বোলিং ইকোনোমি, ক্যারিয়ারের মোট অর্ধশতক ও শতক, ক্যারিয়েরের মোট কতবার এক ইনিংস এ চার ও পাঁচ উইকেট শিকার, এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান, এবং এক ইনিংসে সেরা বোলিং। পরিসংখান বিদ্যার ডিসক্রিট ইন্টারভ্যাল স্কেলিং সিস্টেম (discrete interval scaling system) ব্যবহার করে প্রতিটি খেলোয়াড় কে উপরে উল্লেখ্য খেলার বিভিন্ন অংশের উপর ভিত্তি করে নম্বর প্রদান করা হয়েছে এবং যা থেকে প্রত্যেকের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়। শুধুমাত্র সেসব খেলোয়াড়দেরকেই এই বিশ্লেষেণের অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচনায় আনা হয়েছে যারা সাকিবের অভিষেকের পর (২০০৬) অন্তত এক বছর খেলায় সক্রিয় ছিলেন এবং নূন্যতম পক্ষে নির্ধিষ্ট সংখক খেলায় অংশ নিয়েছেন। টি-২০ এর বিশ্লেষণে যারা অন্তত ৪০ টি ম্যাচ খেলেছেন, একদিনের ম্যাচে ১০০ টি ম্যাচ খেলেছেন, এবং টেস্ট ক্রিকেটে যারা অন্তত ২০টি ম্যাচ খেলেছেন শুধুমাত্র তাদেরকেই নিজ নিজ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষণের ফলাফল নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ 
Mobirise
টেস্ট ক্রিকেট 
Mobirise
আন্তর্জাতিক টি-২০ 
Mobirise
(সূত্র : ESPN Cricinfo)
বিশ্লেষণের ফলাফলে দেখা যায় যে শুধুমাত্র জ্যাক ক্যালিস, শন পলক আর সাকিব ছাড়া আর কোনো খেলোয়াড়ই একই সাথে একদিনের ম্যাচ, টি-২০, এবং টেস্ট ম্যাচের তালিকার প্রথম পাঁচের মধ্যে স্থান যখন করে নিতে পারেন নি। আর আপনি যদি শন পলক, শহীদ আফ্রিদি, জয়সুরিয়া, টেন্ডুলকার, অনিল কুম্বলে, কিংবা ড্যানিয়েল ভিট্টোরির মতো খেলোয়াড়দের এই প্রজন্মের খেলোয়াড় হিসাবে না ধরেন, তাহলে পরিসংখ্যানে সাকিবকে টেক্কা দেয়ার মতো অলরাউন্ডের খুঁজে বের করার কাজটা হবে আরো দুরহ। উপরের টেবিল বিশ্লেষণ থেকেই দেখা যায় যে খেলার বিভিন্ন দিক বিচারে সাকিব অশ্বিন, জাদেজা, স্টোকস, বা মোহাম্মদ নাবির মতো অনেক বড় বড় খেলোয়াড়দের উপরে অবস্থান করছেন। নিচে সাকিবের সাথে হালের কয়েকজন সুনামধন্য অলরাউন্ডের তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হলো।
এই প্রজন্মের অন্য তারকাদের পাশে সাকিব 
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
Mobirise
উপরের বিশ্লেষণের ফলাফল আর তুলনামূলক টেবিল থেকে সাকিবের ব্যাপারে কয়েকটা জিনিস ফুটে উঠেছে। প্রথমত, সাকিবের ব্যাটিং ও বোলিং গড় বলে সাকিব একই সাথে একজন প্রতিষ্ঠিত টপ বা মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান এবং একজন উইকেটশিকার ক্ষমতাসম্পন্ন নিয়মিত বোলার। সাকিবের ব্যাটিং ও বোলিং গড় আরো বলে দেয় যে সাকিব হারানো দিনের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির খাঁটি এক অলরাউন্ডার যিনি ব্যাট বা বল দুটোই সমান ভাবে ব্যাবহার করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বিগত কয়েক বছর ধরে এ ধরণের অলরাউন্ডারদের সংখ্যা খুবই কম, কারণ এখনকার দিনের বেশিভাগ অলরাউন্ডারদের দেখা যায় তারা ব্যাটিং বা বোলিং এর যেকোনো একটিতে শক্তিশালী কিন্তু অপরটিতে অপেক্ষাকৃতভাবে দুর্বল, বিশেষ করে একদিন বা পাঁচ দিনের ম্যাচে।
উপরের টেবিলগুলোতে এই একটি চিত্রই বারবার ফুটে উঠেছে। যেমন একদিনের ম্যাচে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩২.৩ গড়ে করেছেন ২৮৭৭ রান, কিন্তু তার বোলিং গড় (৫০.৫) মোটেও একজন প্রতিষ্ঠিত বোলারের মানের নয়। বেন স্টোকসেরও অবস্থা কিছুটা একই রকম। ব্যাটিং গড়ে (৪০.৭) তিনি সাকিবের (৩৭.৮) উপরে, কিন্তু বোলিং এ তিনি ৯৫ টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন মাত্র ৭০ টি উইকেট, এবং তার বোলিং গড় ৪১.৭, যা সাকিবের চেয়ে অনেক বেশি এবং এই গড় একজন নিয়মিত বোলারের জন্য যথেষ্ট মানানসই নয়। অন্যদিকে মোহাম্মদ নাবী, ডোয়াইন ব্রাভো, জেসন হোল্ডার, আর রবিচন্দ্র অশ্বিন এর পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। এদের প্রত্যেকেই বোলিং গড়ের হিসাবে আছেন শক্ত অবস্থানে কিন্তু ব্যাটিং গড়ে আছেন পিছিয়ে। একদিনের খেলায় রবীন্দ্র জাডেজাই একমাত্র খেলোয়াড় যার ব্যাটিং (৩০.৬) ও বোলিং (৩৫.৯) গড়ের মধ্যে রয়েছে সামঞ্জস্য, যা একজন খাঁটি অলরাউন্ডারের খুব কাছাকাছি যদিও তিনি এই দুটি বিভাগেই সাকিবের চেয়ে পিছিয়ে ।
Mobirise
এসময়ের সাকিবের সব চেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী (বাম দিক থেকে) নবী, অশ্বিন, জাদেজা, ম্যাক্সওয়েল, স্টোকস এবং ব্রাভো 
টেস্ট ক্রিকেটে নাবী আর ম্যাক্সওয়েল যথাক্রমে খেলেছেন মাত্র ৭টি এবং ৩টি করে ম্যাচ, তাই টেস্ট অঙ্গনের সেরা অলরাউন্ডারের বিতর্কে তাদের নাম এখনো কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক। আর পাঁচ দিনের খেলা থেকে অবসর নেয়ার আগে ডোয়াইন ব্রাভো কখনোই ব্যাটিং (৩১.৪২) আর বোলিং (৩৯.৮৩) দিয়ে নিজের অলরাউন্ডার উপাধির প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। সেই দিক দিয়ে জাদেজা এবং অশ্বিনের রেকর্ড বেশ ভালো। ব্যাটিং গড়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বোলিং গড়ে এদের দুজনই সাকিবের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে। জাদেজা আর অশ্বিন যদি তাদের ব্যাটিং গড় চল্লিশের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন তাহলে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেদের অবস্থান সাকিবের উপরে নিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ তাদের সামনে থাকবে। তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে জেসন হোল্ডারের রেকর্ড ও বেশ প্রশংসনীয় কিন্তু সাকিবকে টপকাতে হলে তাকেও ব্যাটিং গড়ে উন্নতি করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে (২০১৯ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত) টেস্ট ক্রিকেটে সাকিবের যদি কোনো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে থাকেন নিশ্চিত ভাবে তিনি বেন স্টোকস। যদিও ব্যাটিং ও বোলিং গড় দুটোতেই এখনো সাকিবের চেয়ে পিছিয়ে, দ্রুত উন্নতি করতে থাকা স্টোকস প্রতিনিয়তই সাকিবকে ছুড়ে দিচ্ছেন শক্ত শক্ত সব চ্যালেঞ্জ।

টি -২০ ম্যাচে অলরাউন্ডারদের মান বিচার বা তাদের ভিতর পার্থক্য খুঁজে বের করা টা একটু মুশকিল, কারণ এই ফরম্যাটে খেলার দৈর্ঘ্য অনেক কম আর অনিশ্চয়তা অনেক বেশি। টি-২০ তে অশ্বিন আছেন বেশ ভালো অবস্থানে। এই ফরম্যাটে তার ব্যাটিং গড় সাকিবের চেয়ে উল্লেখযোগ্য রকম উপরে এবং বোলিং গড়ও সাকিবের প্রায় কাছাকাছি। উপরের টেবিলে ফিরে গেলে দেখা যাবে নাবী, ম্যাক্সওয়েল আর ব্রাভো, এই তিনজনেরই ব্যাটিং এবং বোলিং গড়ও বেশ সন্মান জনক, এবং এদের মধ্যে অলরাউন্ডার হিসাবে কে কার চেয়ে বেশি সফল বা সক্ষম সেটা আলাদা করে বলা মুশকিল। সেই তুলনায় জাদেজা এখনো অলরাউন্ডার হিসাবে টি-২০ তে নিজেকে প্রতিষ্টা করতে পারেননি কারন এই ফরম্যাটে ৪৪টি খেলায় অংশ নেয়ার পর তার বোলিং গড় (৩১.৫৪) মোটামোটি গ্রহণযোগ্য হলেও ব্যাটিং গড় (১১.৮৪) এখনো তেমন আশাব্যাঞ্জক নয়। তবে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেট এর রেকর্ডে সবচে বড় রহস্যের নাম বেন স্টোকস। বিশ্বের সবকটি ঘরোয়া টি-২০ লীগে তার উপচে পড়া জনপ্রিয়তা আর আকাশচুম্বী বাজারদর থাকা সত্ত্বেও স্টোকস নিজের দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ২৩ টি, এবং এই অল্পসংখক ম্যাচ খেলে ব্যাটিং (১৫.৫) বা বোলিং (৪৯.৬) কোনো বিভাগেই নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।
পরিসংখ্যানে তার আধিপত্যের বাইরেও সাকিবের ব্যাপারে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্রিকেটানুরাগীদের খেয়াল করা উচিত। আর সেটা হলো, ক্রিকেটের তিন সংস্করনেই সাকিবের সমান এবং একতরফা আধিপত্য যা এই সময়ের আর কোনো অলরাউন্ডার করে দেখতে পারেনি। একাধিকবার এমনও হয়েছে যে তিন সংস্করণের র‍্যাঙ্কিং এই সাকিব এক নম্বর। উপরে উল্লেক্ষিত অলরাউন্ডারদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা যেকোনো এক ফরমেটে সাকিবকে শক্তভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বা র‍্যাঙ্কিং এর শীর্ষ স্থান থেকে ছিটকে দিয়েছেন, কিন্তু বার্থ হয়েছেন অন্য ফরমেটে। যেমন জাদেজা আর অশ্বিনের টেস্ট ক্রিকেটের অর্জনের কথা উপরে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা দুজনেই একদিনের ম্যাচ এবং টি-২০ তে সাকিবের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। অন্যদিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের আধিপত্য টি-২০ তে, যিনি কিনা বর্তমানে (অক্টোবর ২০১৯) টি-২০ অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিং এ সবার উপরে, কিন্তু ক্রিকেটের অন্য দুই সংস্করণে তার নাম উল্লেখ করার মতো কোনো অর্জন নেই। স্টোকস, হোল্ডার, বা নাবীর তিন সংক্ষরণের পারফর্মেন্স সেই তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভারসাম্যপূর্ণ, কিন্তু সাকিবের ৩ ফরমেটের অর্জন ছুতে বা টপকাতে হলে তাদের প্রত্যেককেই নিজের ক্যারিয়ার অনেকখানি দীর্ঘায়িত করতে হবে এবং লম্বা সময় ধরে পারফর্মেন্স ধরে রাখতে হবে।
Mobirise
বিশ্বকাপ ২০১৯ এ সাকিব (ছবি: নূরফটো / গেটিইমেজেস)
উপসংহার
পরিসংখ্যান অবশ্য অনেকক্ষেত্রেই মানুষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে পারে কারণ খেলার অনেক ধরণের আনুষাঙ্গিক ব্যাপার পরিসংখ্যানের ফলাফলে ফুটে ওঠে না। যেমন সাকিবের রেকর্ড যতই উপরের দিকে থাকুক, অনেকেই হয়তো বলতে পারেন যে, অশ্বিন আর জাদেজার রেকর্ডের দাম অনেক বেশি কারণ সাকিব যাদের বিপক্ষে বেশি খেলেন, অশ্বিন আর জাদেজা তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেন কঠিন প্রতিপক্ষের সাথে। কিংবা অনেকেই বলবেন যে সাকিব আর স্টোকসের রেকর্ডের তুলনা অযৌক্তিক কারণ সাকিব বেশি খেলেন ধীরগতির স্পিন সহায়ক উইকেটে আর স্টোকস বেশি খেলেন দ্রুতগতির ঘাসের উইকেটে। এর বাইরেও আরেকটা ব্যাপার আছে যার কারণে সাকিবকে এখনই এই যুগের শ্রেষ্ট অলরাউন্ডার বলা যায় না। পরিসংখ্যানের খেলার সকল দিক বিবেচনায় সামগ্রিক দিক দিয়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সাকিব এখনো নিজেকে এমন উচ্চতায় নিজে যেতে পারেন নি যা অন্যদের ধরাছোয়ার বাইরে। অশ্বিন, জাদেজা, হোল্ডার, আর স্টোকস, প্রত্যেকেরই সামনে সুযোগ থাকবে বিভিন্ন বিভাগে সাকিব কে টপকে যাওয়ার। তাই সাকিব এই প্রজন্মের শ্রেষ্ট অলরাউন্ডার সেই উপসংহার লেখার মতো পরিস্থিতি এখনো আসেনি।

কিন্তু গত দেড় যুগের পরিসংখ্যান হিসেবে ধরলে এইটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় যে সংখ্যার বিচারে জ্যাক ক্যালিসের পর সাকিবই সবচেয়ে সফল আর সজ্জিত অলরাউন্ডার। সংখ্যার হিসাব বাদেও সাকিবের আছে আরো কিছু অর্জন যা থেকে অন্যদের মাঝে সাকিবকে আলাদা করে চেনা যায়। উপরে আলোচিত সকল খেলোয়াড়দের থেকেই সাকিব উল্লেখযোগ্যসংখক বেশিবার ম্যাচসেরা বা সিরিজসেরা পুরস্কার জিতেছেন। এ ছাড়া সাকিব মাত্র সাতজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন যারা কিনা ক্রিকেটের তিন সংক্ষরণেই এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিতে সংক্ষণ হয়েছেন। আর সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিন সংক্ষকরণেই এক নম্বর স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সাকিবের ক্যারিয়ারের সবচে বড় রেকর্ডটি তাকে ক্রিকেটের দুই মহানায়কের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়। এই রেকর্ডটি হলো একেই টেস্ট ম্যাচে একশো রানের পাশাপাশি দশ উইকেট নেয়ার বিড়াল অর্জন যা কিনা আছে পুরো টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সাকিব ছাড়া আর মাত্র ২ জন খেলোয়াড়ের। সেই ২ খেলোয়াড়ের একজন হলো ইয়ান বোথাম, আর অন্যজন ইমরান খান !
Share on Facebook
মন্তব্য 

প্রতিটি মন্তব্য পর্যবেক্ষন করা হবে, দয়া করে মন্তব্যের নিয়মাবলি অনুসরণ করুন 
সাকিবকে নিয়ে আরও পড়ুন 

উৎস
ESPNCricinfo. (2019). Cricket Records – Find ICC Cricket Stats Online | ESPNcricinfo.com. Retrieved from http://stats.espncricinfo.com/ci/engine/records/index.html

Kimber, J. (2019). Why aren’t there more true allrounders like Shakib in ODIs? | ESPNcricinfo.com. Retrieved July 23, 2019, from ESPNCRICINFO website: https://www.espncricinfo.com/story/_/id/27070967/why-there-more-true-allrounders-shakib-al-hasan-odis

ছবি
Title image of Ben Stokes by NAPARAZZI, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:BEN_STOKES_(11704837023).jpg

Title image of Shakib Al Hasan by Mohammed Tawsif Salam, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Shakib_fielding,_23_January,_2009,_Dhaka_SBNS.jpg

Title image of R. Ashwin by Vijay Chennupati , CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Ashwin_(6801258319)_(cropped).jpg

Image – 1 of Shakib Al Hasan by Clive Mason/Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/shakib-al-hasan-of-bangladesh-in-action-batting-during-the-news-photo/1159628814

Image of M. Nabi by K Popal, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Mohammad_Nabi-Australia.jpg

Image of R. Ashwin by Dee03, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Ravi_Ashwin.jpg

Image of R. Jadeja by Dee03, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Ravindra_Jadeja.jpg

Image of G. Maxwell by paddynapper, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Glenn_Maxwell.jpg

Image of B. Stokes by NAPARAZZI, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:BEN_STOKES_(11704837023).jpg

Image of D. Bravo by http://www.bollywoodhungama.com, CC BY 2.0, https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Dwayne,_Jacqueline,_kJo_setsof-JDJ_3.jpg

Image – 2 of Shakib Al Hasan by Action Foto Sport/NurPhoto via Getty Images, https://www.gettyimages.ca/detail/news-photo/shakib-al-hasan-of-bangladesh-during-icc-cricket-world-cup-news-photo/1154083985
Published originally on November 3, 2019 at mindgoat.ca

লেখকের বৃত্তান্ত 

Adlul Kamal 

আরো পড়ুন 

আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে যোগাযোগ করুন:

Mobirise gives you the freedom to develop as many websites as you like given the fact that it is a desktop app.

Publish your website to a local drive, FTP or host on Amazon S3, Google Cloud, Github Pages. Don't be a hostage to just one platform or service provider.

Just drop the blocks into the page, edit content inline and publish - no technical skills required.

Mobirise

“The scope of one’s personality is defined by the magnitude of that problem which is capable of driving a person out of his wits.”
― Sigmund Freud

সোশাল মিডিয়াতে অনুসরণ করুন : 

Address

1013 Florence Street, London, N52 2M7 ON Canada

Contacts

Email: adlul@mail.com
Phone: +1 204 470 3570

CSPA
Follow on Facebook
Follow on Twitter
Connect on LinkedIn
Subscribe on YouTube
Adlul Kamal, M.Sc. - Sport and Exercise Psychology